mofizজাকির সিকদারঃ সবাই জানে এক নাম তিনি বলতে বলতেই মফিজ আজ সহকারী পুলিশ সুপার।সেই কোন মফিজ সেটা জানুন ৭১ বাংলা টিভি তে আজ কে বিভাগীয় সম্পাদকের সংবাদ-

‘আমার নাম মফিজ, ভাড়া হইছে তিরিশ’- একথাটি শোনেননি এমন মানুষ পাওয়া ভার। আর যাদের নাম মফিজ তাদেরতো কথাই নেই। যার মুখের একথা এতটা জনপ্রিয় হয়েছে তাকে হয়তো সেভাবে চেনেন না। পর্দার পেছনেও তার আরেকটা গল্প আছে। সেটা আরো ‘থ্রিলিং’, আরো চ্যালেঞ্জিং। ছবি দেখে আন্দাজ করেছেন নিশ্চয়ই। হ্যাঁ, বাস্তবেও তিনি পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত। বর্তমানে ডিএমপিতে দায়িত্ব পালন করছেন। ও, তার নামটাইতো বলা হয়নি। সবাই মফিজ বলে চিনলেও, তার প্রকৃত নাম খন্দকার লেলিন, সহকারী পুলিশ সুপার।

দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মিডিয়াতেও কাজ করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। কদিন আগে অভিনয়ে জুটেছে পুরস্কারও। কথা হল সদা হাস্যোজ্জ্বল মানুষটির সাথে। সংবাদ মাধ্যমে অপরাধ বিভাগে কাজ করতে গিয়ে সবসময় ব্যত্যয়টাই চোখে পড়েছে। এবার দেখলাম একজন পুলিশ কর্মকর্তার পর্দার আড়ালের জীবন। এর শুরুটা কোথা থেকে? জানতে চাইলে মৃদু হেসে জবাব দিলেন খন্দকার লেনিন। বললেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী। সেখানে তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় একদিন বন্ধুদের সাথে প্রখ্যাত অভিনেতা তারিক আনামের অফিসে গিয়েছিলাম। সেই সময়টাতেই কাকতালীয়ভাবে সেখানে একটা বিজ্ঞাপণের জন্য স্ক্রিন টেস্ট চলছিল। অপেক্ষা করতে দেখে সেখানকার একজন জিজ্ঞেস করলেন, আমিও স্ক্রিন টেস্ট দেব কিনা, কী যেন ভেবে দিয়েই দিলাম। নির্বাচিতও হলাম। সেখান থেকেই শুরু, বলে রাখা ভালো ওই বিজ্ঞাপনটি ছিল একটি টুথ পাউডারের বিজ্ঞাপন। যার স্লোগান পরে সবার মুখে মুখে চলে এসেছিল, ‘আমার নাম মফিজ ভাড়া হইছে তিরিশ।’

 

 

তবে চাকরি, মডেলিং, অভিনয়ের আড়ালে সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি একজন মঞ্চের কর্মীও। মঞ্চের সাথে তিনি এখনও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় কাজ করেছেন নাট্যদল আরন্যকে। ইতোমধ্যে তিনি শেক্সপিয়রের ম্যাকবেথ, রাশিয়ান একটি নাটক থ্রি সিস্টারস, ফ্রেঞ্চ প্লে দ্যা তুফেনে কাজও করেছেন। এছাড়াও কাজ করেছেন, বিখ্যাত নোবেল বিজয়ী লেখক হ্যারল্ড প্রিস্টন এর কয়েকটি নাটক, সংস্কৃত নাটক মৃচ্ছকটিসহ বেশ কটিতেই।

 

 

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রিয় কাজ কোনটি? জানতে চাইলে লেনিন বলেন, ‘আমার জীবনের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রিয় কাজ সেটি হচ্ছে মনসা মঙ্গল এর বেহুলার ভাসান নাটকে অভিনয় করা। যেখানে আমি শ্রদ্ধেয় জামিল আহমেদ স্যারের তত্ত্বাবধানে নাটকটিতে অভিনয় করি। আসলে উনি সবার সাথে এমনিতেই বেশি কাজ করেন না, আমি মনে করি আমি অনেক সৌভাগ্যবান উনার সাথে কাজ করতে পেরে।’

2016_05_20_16_31_45_urp8hLGPLPahGqhPKvZbcGC74lSDVW_original
মডেলিং থেকে অভিনয়। পরিচালক রেদোয়ান রনির হাত ধরে জাম্পিংটা হয়েছিল। বললেন সে গল্পও। বললেন, ‘টেলিফিল্ম এ আসার পেছনে অনন্য অবদান রেদোয়ান রনি ভাইয়ের। উনার মত ডিরেকশন খুব কম পরিচালকই দিতে পারেন। নাটকের বিষয়ে উনার সৃজনশীল জ্ঞ্যান, লাইট সম্পর্কে ধারণা এবং সর্বোপরি উনি নতুন চিন্তাচেতনার মানুষ যেটা একজন ডিরেক্টরের থাকা উচিত বলে মনে করি। আরো বড় কথা হল, নতুন যে কারো ভেতর থেকে অভিনয় বের করে আনার তার দুর্দান্ত ক্ষমতা তার আছে।’

LEAVE A REPLY