in
দিল্লির চলন্ত বাসে মেডিকেল শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে গণধর্ষণ ও খুনের মামলায় তিন বছর কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে আজই মুক্তি পেতে যাচ্ছে অভিযুক্ত এক আসামি।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানায়, রোববার স্থানীয় সময় বিকেলে কিশোর সংশোধন কেন্দ্র থেকে ছাড়া পেতে পারে বর্তমানে ২০ বছর বয়সী ওই যুবক। তার মুক্তি ঠেকাতে দ্রুত আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে নির্ভয়ার পরিবার। এই ইস্যুতে ভারত জুড়ে বিক্ষোভের মধ্যেই হিমাচলের এক ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক স্কুল শিক্ষককে।

২০১২ সালের দিল্লির চলন্ত বাসে মেডিকেল শিক্ষার্থী নির্ভয়াকে পালাক্রমে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় ৪ আসামির ফাঁসির রায় হলেও, সেসময় বসয় কম থাকায় তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানো হয় এক অভিযুক্তকে। তিন বছরের আটকাদেশ আর বাড়ছে না বলে দিল্লির হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ছাড়া পাবার কথা বর্তমানে ২০ বছরের ওই যুবকের।

বহুল আলোচিত নির্ভয়া গণধর্ষণ মামলার এই আসামীর মুক্তির প্রক্রিয়ায় শনিবার ভারত জুড়ে বিক্ষোভ চলে। আর নির্ভয়ার পরিবারের আকুতি দ্রুত আইন সংশোধন করে অপরাধীর মুক্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হোক।

নির্ভয়ার মা বলেন, আদালতের এমন সিদ্ধান্তে আমরা ক্ষুব্ধ। আমাদের প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে সরকারের ঘুম ভাঙবে বলে আশা করছি।

নির্ভয়ার বাবা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এখনকার আইন সংশোধন করতে সবধরনের পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এমন ভয়ঙ্কর অপরাধীকে অতিরিক্ত অনুকম্পা দেখানো হয়েছে বলে মন্তব্য দিল্লির নারী অধিকার কর্মীদেরও।

দিল্লি কমিশন ফর উইমেন প্রধান স্বাতী মালিওয়াল বলেন, অভিযুক্তকে মুক্তি না দিতে, প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লিখেছি। উপ-রাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি’র সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে অনুরোধও জানিয়েছি। আইনের ফাঁক গলিয়ে এমন ধর্ষক মুক্তি পেলে তা হবে ভারতের জন্য কলঙ্কজনক।

একদিকে দিল্লিতে যখন পার পেতে যাচ্ছে নির্ভয়ার ঘাতক ঠিক তখনই ভারতের হিমাচলে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে অজয় কুমার নামে এক স্কুল শিক্ষককে।

ধর্মশালা ডেপুটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ হিতেশ লাখানপাল বলেন, স্কুলে পৌঁছে দেবার কথা বলে স্কুটারে তুলে নিয়ে নির্যাতন করা হয় শিশুটিকে। এ ঘটনায়, ৪২ বছর বয়সী অজয় কুমারের বিরুদ্ধে স্থানীয় শাহপুর থানায় অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

ভারতে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে নিন্দা আর বিক্ষোভের পর বিক্ষোভ হলেও ক্রমেই বেড়ে চলেছে এ ধরনের ঘটনা। ২০১৪ সালে ধর্ষণ, হয়রানি, অপহরণ আর স্বামীর হাতে নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটেছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার। ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্য মতে, ২০১৩ সালের চেয়ে এ-সংখ্যা ৭ শতাংশ বেশি।

 

LEAVE A REPLY