ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০১৮: আজ ঢাকার তোপখানা রোডে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কোস্ট ট্রাস্ট ও সিসিএনএফ (কক্সবাজার সিএসও এনজিও নেটওয়ার্ক)-এর নেতৃত্বে অধিকার ভিত্তিক নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ২৫ আগস্ট ২০১৭ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী আগমনের এক বছর স্মরণে একটি মানববন্ধন আয়োজন করে। যার শিরোনাম ছিল, “গণহত্যার দায়ে মায়ানমার সামরিক জান্তাকে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে”। মানববন্ধন সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দ। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম, জায়েদ ইকবাল খান, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতির সুবল সরকার, কোস্ট ট্রাস্টে বরকত উল্লাহ মারুফ ও সিসিএনএফের কো-চেয়ার ও কোস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী।
সকলের পক্ষ থেকে মূল বক্তব্য ও দাবি উপস্থাপন করেন কোস্টের সহকারী পরিচালক বরকত উল্লাহ মারুফ। পাঁচটি মূল দাবি হচ্ছে (১) মায়ানমার সামরিক জান্তাকে গণহত্যা ও এ ধরনের জাতি নিধনের অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখী করতে হবে। অন্যথায় রুয়ান্ডার মতো ন্যাক্কারজনক গণহত্যা ইতিহাসে বারবার ঘটতে থাকবে। (২) জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর ত্রাণকাজের পাশাপাশি এ ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ভারত, চীন ও রাশিয়াকে ন্যায়বিচারে ভূমিকা পালন করতে হবে। (৩) শরণার্থীদের মানবিক মর্যাদা পাবার অধিকার রয়েছে। বর্তমানে শরণার্থী শিবিরে তাদের মানবেতর জীবনের পরিবর্তণ আনতে হবে। শিক্ষা, চিকিৎসাসহ মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘সামগ্রিক সমাজ এপ্রোচ’ নিয়ে কাজ করতে হবে। (৪) ত্রাণকাজকে বাণিজ্যে পরিণত করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ত্রাণ কাজে নিয়োজিত সকল সংস্থাকে তাদের ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করতে হবে। তহবিলের কত অংশ তারা ত্রাণকাজে, কত অংশ ব্যবস্থাপনার কাজে আর কত অংশ উপকরণ ক্রয়ে ব্যয় করছে তার পূর্ণ হিসাব দাখিল করতে হবে। (৫) মায়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার বদলে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে যাতে মায়ানমার অযথা কালক্ষেপন করতে না পারে এবং গণহত্যা ও প্রত্যাবাসন নিয়ে নানা ধরনের টালবাহানা না করতে বাধ্য হয়।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মতোই রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের উপর একটি চাপিয়ে দেয়া সমস্যা। বাংলাদেশ উভয় ক্ষেত্রে কেবল নির্দোষ শিকার।
কোস্ট ট্রাস্টের মোস্তফা কামাল তার বক্তব্যে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের আগ্রহ কমে যাচ্ছে এবং এক সময় তারা এসব ফেলে চলে যাবে। তখন বাংলাদেশকে একাই এই ভার বহন করতে হবে। কাজেই এখন থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচিত হবে জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থার সকল কাজের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিহির সুবল সরকার বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহ অত্যন্ত বিলাসিতার সাথে শরণার্থীদের ত্রাণ বিতরণ করছে। এসব কাজে দেড় হাজার বিদেশী বিশেষজ্ঞ নিয়োগের কোনো প্রয়োজন আছে কি না তা প্রশ্নসাপেক্ষ।
কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ বরাবরই মানবাধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল জাতি। এ কারণেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শরণার্থীদের জন্য সীমানা খুলে দিয়েছেন। আমরা তার জন্য গর্ববোধ করি। কিন্তু একে দুর্বলতা ভাবার অবকাশ নেই। তিনি আরো বলেন, ভারত, চীন ও রাশিয়ার সাথে আমাদের বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য রয়েছে। স্বাধীনতার পর হতেই তাদের সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ পরীক্ষিত সম্পর্ক রয়েছে। কাজেই অন্তত সেই সূত্র ধরে হলেও, এই তিনটি দেশের উচিত মায়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করা যাতে তারা সম্মান ও মর্যাদার সাথে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়। বাংলাদেশ যে দরিদ্র দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে উন্নতির চেষ্টা করছে সেই সুযোগ তাকে দেয়া উচিত।