ঢাকা, ৪ ভাদ্র (১৯ আগস্ট):
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারিক আদালতের রায় আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেয়া সম্ভব হবে। রায়টি হলে দেশ আরও একটি দায় থেকে মুক্তি পাবে।
আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় ফাঁসি কার্যকর এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দ্রুত বিচারের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
আইনমন্ত্রী বলেন,২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে ১৭ জন পলাতক। এ মামলায় আদালতে ২২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। এছাড়া আসামিদের প্রত্যেককে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিয়মতান্ত্রিকভাবে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচারের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি এমনও করতে পারতেন একটা স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল করে তিনদিনের মধ্যে বিচার করে সামারি ট্রায়াল করে অপরাধীদের ফাঁসি দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, দেশের আইন মেনেছেন এবং দেশের আইনি পদ্ধতি মেনেই তাদের বিচার চলছে। তিনি বলেন, ২১ আগস্ট কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। ২১ আগস্ট হচ্ছে বাংলাদেশকে ব্যর্থ করার জন্য যে ষড়যন্ত্র তারই ধারাবাহিকতা। ষড়যন্ত্রকারীরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যকে হত্যা করেছিল। তারা মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে হত্যা করেছে। কিন্তু খুনিরা বুঝতে পারে নাই, বঙ্গবন্ধুর রক্ত তার দুই কন্যার মধ্যে প্রবাহিত। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে তারা অনেকবার হত্যার চেষ্টা করেছে। তাকে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট হত্যা করার প্রচেষ্টা সেসব প্রচেষ্টারই অংশ ছিল।
মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের চোখ খুলে দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষ উন্নয়ন চায় এবং সেই উন্নয়ন জননেত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই চায়। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচন জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই হবে। কোন দল নির্বাচনে আসল, আর কোনো দল নির্বাচনে আসল না সেটা সেই দলের উপর নির্ভর করে। কিন্তু কোনো একটা দল নির্বাচনে আসবে না আর সেজন্য নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে বাংলার জনগণ তা হতে দেবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বক্তৃতা করেন।