ঢাকা, ১৯ আগস্ট ২০১৮। আজ ঢাকায় বাংলাদেশ এনজিওস ফর ডব্লিউএইচএস, কক্সবাজার সিএসও এন্ড এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) এবং কোস্ট ট্রাস্ট বিশ্ব মানবিকতা দিবস উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত “আমরা চাই মানবতাবাদি ও উন্নয়ন কাজে স্থানীয়করণের রোডম্যাপ ও কর্মীদের দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজনে সহযোগিতা করে অক্সফাম। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওদের প্রতি স্থানীয় এনজিওদের সঙ্গে সমতাভিত্তিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা, এবং স্থানীয় এনজিওকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা না করার আহ্বান জানান। তারা জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওদের অর্থায়নে স্থানীয় এনজিও কর্তৃক বাস্তবায়িত কোন কর্মসূচির কোন কর্মী দুর্ঘটনার শিকার হলে তার জন্য আন্তর্জাতিক কর্মীদের মতোই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান। বর্তমানে এর কোন ব্যবস্থাই নেই। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, গত ১৫ আগস্ট কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাওয়ার সময় রোজিনা আক্তার নামের স্থানীয় এনজিও মুক্তি কক্সবাজারের একজন মাঠ কমী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়। আয়োজকগণ উল্লেখ করেন যে, ২০০৮ সাল থেকে জাতিসংঘের আহ্বানে প্রতি বছর ১৯ আগস্ট বিশ্ব মানবিকতা দিবস পালিত হয়ে আসছে। এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো, বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকটগ্রস্ত মানুষদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কর্মীদের ভূমিকা ও ত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া।
সিসিএনএফ-এর কো-চেয়ার ও কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, ক্রেডিট এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরামের চেয়ারম্যান এমরানুল হক চৌধুরী, ফেডারেশন অব এনজিওস-এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম, এসোসিয়েশন অব ডেভেলপমন্টে এজেন্সিস অব বাংলাদেশ-এর সমন্বয়কারী কাওসার আহমেদ কনক, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক মাসুদা ফারুক রতনা, অক্সফামের হিউম্যানিটারিয়ান প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিজানুর রহমান, কোস্ট ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক শওকত আলী টুটুল, ভয়েস অব সাউথের মো. শহীদুল ইসলাম এবং তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার ফারুক আহমেদ।
শওকত আলী টুটুল আয়োজকদের পক্ষ থেকে চারটি দাবি তুলে ধরেন, এই দাবিগুলো প্রতিশ্রুতি আকারে ইতিমধ্যে জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো গ্রান্ড বারগেন ( মে ২০১৬), চার্টার ফর চেঞ্জ (২০১৫) এবং অংশীদারিত্বের মূলনীতি (২০০৬) শীর্ষক দলিলগুলোতে উল্লেখ করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত দাবিগুলো হলো: ১) মাঠ পর্যায়ে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরে এসে স্থানীয় এনজিওদের কাছে নেতৃত্ব হস্তান্তরে জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে, (২) জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে বাংলাদেশের স্থানীয় এনজিও/সিএসওগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে যাতে সার্বভৌম ও জবাবদিহিতাপূর্ণ সংগঠন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে তার জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে কাজ করতে হবে, (৩) জাতিসংঘ অঙ্গসংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোকে স্থানীয় এনজিওদের থেকে অনৈতিকভাবে কর্মী হরণ বন্ধ করতে হবে। কারণ স্থানীয় এনজিওগুলো এদেশের স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তিতে কাজ করে। সবার জন্য একটি নির্দিষ্ট বেতন ও সুযোগ সুবিধা কাঠামো তৈরির চেষ্টা করতে হবে। স্থানীয় সংগঠনগুলো থেকে কর্মী নিলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, (৪) ত্রাণ কার্যক্রমে দাতা সংস্থার বিদেশী এবং তাদের কর্মীদের দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার মতো তাদের অংশীদা স্থানীয় সংস্থার কর্মীদের জন্যও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।