ঢাকা: ১৯ আগস্ট, রবিবার ২০১৮ :
আজ ১৯ আগস্ট রবিবার বিকালে সারাদেশে আসন্ন ঈদযাত্রা পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের গত কয়েকদিনব্যাপী নগরীরর বিভিন্ন বাস কাউন্টার , লঞ্চ টার্মিনাল , রেল ষ্টেশন , বিমান বুকিং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণোত্তর অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন ,ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা না গেলে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও পণ্যবাহী পরিবহনে নি¤œআয়ের লোকজনের যাতায়াত কোনভাবেই ঠেকানো যাবেনা।এতে করে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়বে। গণপরিবহন সংকটের কারণে ও কম ভাড়ার আশায় নিন্মআয়ের লোকজন ফিটনেসবিহীন এইসব যানবাহন, পণ্যবাহী যানবাহন, বাস-ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিআরটিএ ও বিআইডব্লিউটিএ এর মনিটরিং কমিটি গঠন করা হলেও ঈদযাত্রার যাত্রীসাধারণের বাস , লঞ্চ ও বিমানের টিকিট দ্বিগুন কোন কোন ক্ষেত্রে তিনগুন দামে কিনতে হচ্ছে।
সারাদেশের সড়ক ,রেল ,নৌ ও আকাশ পথের যাত্রীসেবা পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এই অভিযোগ করেন সংগঠনটি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে যাত্রীসাধারণের অভিযোগ এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে গণমাধ্যমের কাছে এই অভিযোগ করেন সংগঠনটি ।
সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী আরো বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার যাত্রী হয়রানি ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়ার স্বত্ত্বেও অল্প সময়ে বিশাল যাত্রীবহর সামাল দেয়ার মত জনবল বা প্রয়োজনীয় যানবাহন না থাকায় প্রতিবছর ঈদ আনন্দ যাত্রায় ভোগান্তি, হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য, সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানাভাবে যাত্রী সাধারণ হয়রানির শিকার হয়ে আসে।প্রতি বছর ঈদে গণপরিবহণ সংকটকে পুঁজি করে ঘটে থাকে নানা অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও হয়রানী বানিজ্য।প্রকৃতপক্ষে গণপরিবহনের চাহিদার বিপরীতে বিশাল ঘাটতি সামাল দিতে গিয়ে আমাদের সরকার, প্রশাসন, মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দকে গলদঘর্ম হতে হয় বলে দাবী করেন তিনি।
দেশের প্রায় প্রতিটি মহাসড়কে চলমান উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ, বিভিন্ন মহাসড়কে রাস্তার মাঝে প্রবল বর্ষনের কারণে সৃষ্ট গর্ত, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার, বিভিন্ন রোডের বিভিন্ন স্পটে রাস্তার উপর বসা হাট-বাজার, মহাসড়কে চলাচলকারী অটোরিক্সা, ব্যাটারি চালিত রিক্সাসহ অযান্ত্রিকযান এইবারের ঈদযাত্রায় যানজটের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।নৌ-পথেও ওভারলোড কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা না হলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ব্যাপক সম্ভাবনা বিরাজমান।