ঢাকা, ১৯আগস্ট, ২০১৭। আজ ঢাকায় একটি হোটেলে বাংলাদেশী এনজিওস ফর ডব্লিউএইচএস (ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটারিয়ান সামিট) এবং কোস্ট ট্রাস্ট ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিটারিয়ন ডে উপলক্ষ্যে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। স্থানীয়করণের মাধ্যমে সুশীল সমাজ শক্তিশালীকরণ শীর্ষক সেমিনারে বক্তাগণ আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর প্রতি দেশীয় এনজিওদের সঙ্গে পার্টনারশিপ বা অংশীদারিত্ব করার সময় সমতার বিষয়টি বিবেচনা করার দাবি জানান। তারা বলেন, দেশীয় এনজিওদের টিকে থাকা এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের জন্যই এই সমতাভিত্তিক অংশীদারিত্ব অত্যাবশ্যক। গণ সাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম। কোস্ট ট্রাস্টের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন, এসএএসইউএস’র শোভা রানী দাস, দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার রফিুকল ইসলাম, এডাব’র এক্েেম জসিম উদ্দন, ইয়াপসা’র আরিফুর রহমান, পদক্ষেপের ইকবাল আহমেদ, সজাগের আবদুল মতিন, আইসিডিএ’র আনেয়ার জাহিদ, স্ট্রম ফাউন্ডেশনের সঞ্জিৎ লিও গোমেজ, মালেয়া ফাউন্ডেশনের মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা, ইউনিসেফে’র এডোয়ার্ড ওয়েবোর, সেভ দ্যা চেলড্রেনের মার্ক পিয়ের্স, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল’র ওরলা মার্ফি, হ্যান্ডিকেপ ইন্টারন্যাশনালের রেইজা ডেজেটু, এসিএফ’র নিপিন গঙ্গাধরন, স্টার্ট ফান্ডের সাজিদ রহমান, ব্র্যাকের গওহর নঈম এবং অক্সফাম’র বদি আখতার। সেমিনারে কার্যকর উন্নয়ন, ডব্লিউ এইচএস এবং গ্র্যান্ড বারগেনের ভিত্তিতে দেশীয় এনজিওদের প্রস্তুতকৃত মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কোস্ট ট্রাস্টের শওকত আলী টুটুল।
মূল প্রবন্ধে দেশীয় এনজিওদের পক্ষ থেকে ১৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়, এর মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দাবি হলো: ১) আন্তর্জাতিক এনজিও এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে সরাসরি প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে সরে আসতে হবে, দেশীয় এনজিওদের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে হবে, তারা স্থানীয় পর্যায়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে না, তাদেরকে অংশীদারিত্বের নীতিমালা করতে হবে এবং আচরণ বিধি তৈরি করতে হবে, ২) আন্তর্জাতিক এনজিওদের দেশয়ি পর্যায়ে নতুন কোন নেটওয়ার্ক করা উচিৎ নয়, বিদ্যমান নেটওয়ার্কগুলোকে সহায়তা করতে হবে, ৩) স্থানীয় পর্যায়ে নতুন কোন এনজিওকে আমদানি না করে স্থানীয় এনজিওদেরকে দিয়ে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে ৪) স্থানীয় এনজিওদেরকে স্বউদ্যোগে নিজেদের আত্ম সম্মান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
আরিফুর রহমান বলেন, স্থায়িত্বশীল নয় এমন কোনও নতুন নেটওয়ার্ক তৈরি করা ঠিক হবে না। একেএম জসিম উদ্দিন বলেন, আন্তর্জাদিক পর্যায়ে অনেক গবেষণা উল্লেখ করেছে যে, দেশীয় এনজিওগুলো অনেক কম খরচেকাজ করতে পারে। আব্দুল মতিন বলেন, মানবিকতা বিষয়ক কর্মকা-ে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশীয় এনজিওরা যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে। গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, বাংলাদেশের এনজিওরা সব সময় নানা সংকটের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। বদিউল আখতার বলেন, উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্ব এবং স্থানীয় নেতৃত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এডোয়ার্ড ওয়েবোর বলেন, স্থানীয়করণের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং ব্যাবস্থাপনার দক্ষতা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ওরলা মার্ফি বলেন, যেহেতু স্থানীয় এনজিওরাই সংকটে সবার আগে সাড়া দেয় , তাই তাদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।
খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, সরকার এনজিওদের বিকাশে যথেষ্ট আন্তরিক। রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, দেশীয় এনজিওদেরকে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, এই প্রচারাভিযান দেশব্যাপী পরিচালনা করা হবে।