fanchফ্রান্সের নিসে হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কাজেনিয়ুভ। একইসঙ্গে, ফ্রান্সের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদারে রিজার্ভ পুলিশের ১২ হাজার সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দেন তিনি। ফ্রান্সে পরপর কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা প্রতিরোধে সরকারকে ব্যর্থ উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে দেশটির ডানপন্থী দল- ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি। এদিকে, নিসে হামলার ৩ দিন পরও নিহতদের স্মরণে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহর, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ও জার্মানিতে ফরাসি দূতাবাসে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে শত শত মানুষ।

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় নিসে লরি নিয়ে ভয়াবহ হামলায় ৮৪ জন নিহতের ঘটনায় ৩ দিন পরও শোকে স্তব্ধ পুরো শহর। শনিবারও ঘটনাস্থল ও শহরটির বিভিন্ন স্থানে নিহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী এ শহরটির শান্তিপ্রিয় বাসিন্দারা এমন ভয়াবহ ঘটনায় মুখোমুখি হয়নি কখনও। এ ঘটনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার বার্তা বলেও মনে করছেন তারা।

স্থানীয় এক ব্যক্ত বলেন, হামলাকারীর পরিবারের তথ্য অনুযায়ী সে ধর্ম পালন করতো না, কিন্তু আবার ধর্মের নামেই এ হামলা চালিয়েছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে এমন সন্ত্রাসবাদ সারা বিশ্বেই চলছে।

এক মহিলা বলেন, সেদিন মেয়েকে নিয়ে আমারও এখানে আসার কথা ছিলো। আমরাও এ ঘটনার শিকার হতে পারতাম। এমন সন্ত্রাসবাদের কাছে কারো জীবনই নিরাপদ নয়। বাতাক্লঁ, প্যারিস, শার্লি এবদোর মতো আমরাও এ হামলার শিকার হলাম।

নিসে হামলায় নিহতদের স্মরণে প্যারিসেও কয়েকটি স্থানেও শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বসবাসরত ফরাসি নাগরিকেরাও নিসবাসীর প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। জার্মানির বার্লিনে ফরাসি দূতাবাসেও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এদিকে, ফ্রান্সে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দানে ব্যর্থ- উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয়তাবাদী ডানপন্থী দল- ফ্রেঞ্চ ন্যাশনাল ফ্রন্ট পার্টি। শনিবার দলটির নেতা ‘ম্যারিন লে পেন’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড কাজেনিয়ুভের পদত্যাগ দাবি করে বলেন- ফ্রান্সের মতো পৃথিবীর যেকোনো দেশে মাত্র ১৮ মাসে সন্ত্রাসী হামলায় আড়াই শ’ মানুষের প্রাণহানি হলে, সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হতো।

এদিকে, ধর্মীয় উগ্রবাদে বিশ্বাস থেকেই নিসে হামলা চালানো হয়েছে কি না- সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী- বার্নার্ড কাজেনিয়ুভ। ফরাসি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি জানান ঘটনার উদ্দেশ্য ও হামলাকারী সম্পর্কে জানতে এখনও তদন্ত চলছে।

শনিবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ফ্রান্সের সর্বত্র নিরাপত্তা জোরদারে রিজার্ভ পুলিশের ১২ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোরও ঘোষণা দেন তিনি।

১৪ জুলাই ফ্রান্সের জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠানে নিস শহরের প্রমেনেদ দে আঁগলাইস চত্বরে হামলার পর, শনিবার চত্বরটি খুলে দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে শহরবাসী সেখানে জড়ো হলেও হামলার পর স্থানটিতে জনসমাগম কমে গেছে।

এদিকে, ফ্রান্সের জাতীয় দিবসে নিস শহরে লরি নিয়ে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরো দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রোববার নিস শহর থেকে এক নারী ও এক পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৫ জনকে আটক করা হয়। এ নিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৭ জনকে গ্রেফতার করা হল।

গ্রেফতারকৃত নারী, হামলাকারী মোহাম্মদ লাহুইয়েজ বোহলেলের সাবেক স্ত্রী। তবে গ্রেফতারকৃত বাকী ৬ জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY