mal-31ঢাকা, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪   : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দেশগুলোর মধ্যে সবার আগে দারিদ্র্যমুক্ত হবে বাংলাদেশ।
তিনি আজ বিকেলে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন।
তথ্যসচিব মরতুজা আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, বিটিভি’র প্রথম মহাপরিচালক জামিল চৌধুরী ও সাবেক উপ-মহাপরিচালক শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন বিটিভি’র মহাপরিচালক আব্দুল মান্নান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত হবে। দারিদ্র্যের হার ১৪ শতাংশে নেমে আসবে। এ অবস্থায় দারিদ্র্যের হার চলে এলেই দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত বলা যায়।
বিটিভি’র ৫০ বছরের পথচলাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার জন্য দেশের উত্তম প্রচার মাধ্যম টেলিভিশন। বিটিভি আমাদের সংস্কৃতির ইতিহাসে এক মাইলফলক। এর মাধ্যমে দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ মানুষ টেরিস্টিরিয়াল সুবিধার জন্য বিটিভি’র অনুষ্ঠান দেখতে পাচ্ছে।’
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিটিভি জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে জনগণের আকাঙ্খা পূরণ করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এগুচ্ছে, বিটিভিকেও সংগ্রাম করে আগাতে হবে। ঔপনিবেশিক ও সামরিক শাসনের সময় বিটিভি কিছুটা লক্ষ্যচ্যুত হলেও এখন আর তা হবে না। ৫০ বছর টিকে আছে, ভবিষ্যতেও বিটিভি টিতে থাকবে।’
তিনি বলেন, শিল্পীরা কখনো জঙ্গি, সাম্প্রদায়িকতা ও স্বৈরাচারের কাছে মাথা নত করে না। শিল্পীরা সাম্প্রদায়িক হয় না, তারা কখনো জঙ্গি হয় না। বিটিভি আগামী দিনে আরো প্রকৃত শিল্পী জন্ম দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য চ্যালেঞ্জ জলবায়ুর অভিঘাত, লিঙ্গবৈষম্য ও জঙ্গিবাদ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিটিভি সহযাত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর কখনো পেছনের দিকে ফেরত যাবে না, উন্নয়ন ও অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যাবে।
সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সারাদেশ থেকে শিশু, কিশোর ও তরুণ শিল্পীদের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বাছাই করা হয়েছে। ১৪টি শাখায় নির্বাচিত ৩৮ জন শিশু, কিশোর ও তরুণদের পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও বিশেষ অতিথি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিজয়ীদের হাতে পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে দেন।
১৪টি শাখার মধ্যে রবীন্দ্র সংগীত ক-শাখায় খুলনা বিভাগের মাশরাফি মুরশেদ তাসফী, খ-শাখায় রংপুর বিভাগের নওশিন শ্যামা সরণি এবং গ-শাখায় খুলনা বিভাগের টুম্পা দাস প্রথম পুরস্কার লাভ করে।
নজরুল সঙ্গীতের ক-শাখায় বরিশাল বিভাগের সুদীপ কর্মকার, খ-শাখায় সিলেট বিভাগের দেবশ্রী তালুকদার সৃষ্টি, গ-শাখায় সিলেট বিভাগের নুশিন আদিবা প্রথম পুরস্কার লাভ করে। লালন সংগীতের ক-শাখায় রাজশাহী বিভাগের সাজিয়া ইসলাম পায়েল, খ-শাখায় রংপুর বিভাগের জ্যোতিময়ী সরকার উর্মি, গ-শাখায় ঢাকা বিভাগের বন্যা ঘোষ প্রথম পুরস্কার লাভ করে। উচ্চাঙ্গ সংগীতের ক-শাখায় ঢাকা বিভাগের কাজী রোদশী ইসলাম নাবা, খ-শাখায় খুলনা বিভাগের তানজিন তাবাসসুম অর্থী, গ-শাখায় রংপুর বিভাগের শায়লা শারমিন বেণু প্রথম পুরস্কার লাভ করে।
আধুনিক গানের ক-শাখায় রাজশাহী বিভাগের রায়া শর্মিলা ইসলাম, খ-শাখায় ঢাকা বিভাগের জিহাদ খান ও গ-শাখায় ঢাকা বিভাগের বন্যা ঘোষ প্রথম পুরস্কার লাভ করে। দেশাত্মবোধক গানের ক-শাখায় রংপুর বিভাগের তিলোত্তমা বিশ্বাস, খ-শাখায় সিলেট বিভাগের দেবশ্রী তালুকদার সৃষ্টি ও গ-শাখায় খুলনা বিভাগের জাফর ইকবাল প্রথম পুরস্কার লাভ করে। লোকসংগীত বিভাগের ক-শাখায় ঢাকা বিভাগের রাফসানুল ইসলাম রাফসান, খ-শাখায় রংপুর বিভাগের পূর্ণিমা রাণী বিশ্বাস, গ-শাখায় খুলনা বিভাগের মো. রাসেল প্রথম পুরস্কার লাভ করে।
সাধারণ নৃত্যের ক-শাখায় ঢাকা বিভাগের মুসাররাত জামান খান মেধা, খ-শাখায় সিলেট বিভাগের মোহন মিয়া ও গ-শাখায় ঢাকা বিভাগের আরিফ হোসেন শামীম প্রথম পুরস্কার লাভ করে। নৃত্য উচ্চাঙ্গের ক-শাখায় খুলনা বিভাগের অথৈ দাস, খ-শাখায় বরিশাল বিভাগের কৃষ্ণা সজ্জন পূজা, গ-শাখায় রংপুর বিভাগের আজমেরী মাশকুরা ইসলাম আরোশা বিশেষ পুরস্কার লাভ করে। দলীয় নৃত্যের ক-শাখায় খুলনা বিভাগের অর্নিকা সরকার ও তার দল, খ-শাখায় রাজশাহী বিভাগের উম্মে হাবিবা ঋতু ও তার দল এবং গ-শাখায় ঢাকা বিভাগের আরিফ হোসেন শামীম ও তার দল প্রথম পুরস্কার লাভ করে। একক অভিনয়ের ক-শাখায় খুলনা বিভাগের মিম্মা মেহজাবিন, খ-শাখায় খুলনা বিভাগের সুমনা আক্তার শান্তা ও গ-শাখায় চট্টগ্রাম বিভাগের রাফিয়া আক্তার প্রথম পুরস্কার লাভ করে।
দলীয় অভিনয়ের ক-শাখায় খুলনা বিভাগের তাসফিয়া মুশাররাত শিওতী ও তার দল, খ-শাখায় রংপুর বিভাগের রাফিস হাসান রিদম ও তার দল এবং গ-শাখায় খুলনা বিভাগের সবুর গাজী ও তার দল প্রথম পুরস্কার লাভ করে। কবিতা আবৃত্তির ক-শাখায় সিলেট বিভাগের সিদরাতুল মুন্তাহা, খ-শাখায় চট্টগ্রাম বিভাগের মুন চাকমা ও গ-শাখায় চট্টগ্রাম বিভাগের হোসনে আরা বেগম প্রথম পুরস্কার লাভ করে।
গল্প বলার ক-শাখায় রাজশাহী বিভাগের দেবদূতী সরকার স্পর্শ, খ-শাখায় বরিশাল বিভাগের সাদিয়া আফরিন হারিসা ও গ-শাখায় বরিশাল বিভাগের চন্দ্রিমা দেয়া প্রথম পুরস্কার লাভ করে।

LEAVE A REPLY