আজ ১৭ নভেম্বর ২০২১ ইং বুধবার সকাল ১০ টায়, জাতীয় প্রেসক্লাবের অডিটরিয়ামে ইসলামী সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মহিলা ইসলামী সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে সংগঠনের সম্মানিত আমীর হজরত সৈয়দ হুমায়ূন কবীর বলেন, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশসহ বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে কোন না কোন মানব রচিত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত আছে বিধায়; বিশ্বের মানুষ মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে বন্দি হয়ে আল্লাহর পরিবর্তে  মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব মেনে মানুষের মনগড়া আইনের আনুগত্য করে মানুষের দাসত্ব করছে, এসবই কুফর এবং শিরক।  কুফর ও শিরকের কারণেই বিশ্বের মানুষ আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের বিভিন্ন রকম আযাব-গজবের শিকার হয়ে চরম দূর্ভোগ ও অশান্তিতে কাল কাটাচ্ছে।  আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আযাব গজব থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়- সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন এবং পরিচালনায় ইসলামের আইন-বিধান প্রতিষ্ঠা করে লোকদেরকে মানব রচিত ব্যবস্থার বেড়াজাল থেকে মুক্ত করা। সকল ধর্মের অনুসারীদের জন্য যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ রেখে সমাজ ও রাষ্ট্রে আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হলেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, উগ্রতা, শোষন-জুলুম ইত্যাদি মানবতা বিরোধী অপরাধ মুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন হবে এবং মানুষের জীবনে সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হবে, ফলে সকল মানুষের সকল অধিকার আদায় ও সংরক্ষণ হবে।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল জনাব সোলায়মান কবীরের সঞ্চালনায়- সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলামের পরিবর্তে মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে চলার পরিণতি এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও পদ্ধতি, এ ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা- শীর্ষক অনুষ্ঠিত মহিলা ইসলামী সম্মেলনে ইসলামী সমাজের আমীর আরো বলেন, গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচন কিংবা উগ্রতা ও সশস্ত্র লড়াই ইসলাম প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি নয়, কারণ এসব পদ্ধতিতে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্ব এবং তাঁরই দাসত্ব ও আইনের আনুগত্যের সীমালঙ্ঘন করা হয়।  আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পথই ইসলাম প্রতিষ্ঠার একমাত্র পদ্ধতি। তিনি আরো বলেন,শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীর আলোকে ঈমান ও ইসলামের দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহরই সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে তাঁরই আইন-বিধানের প্রতিনিধিত্বকারী আমীরের নেতৃত্বের আনুগত্যে ছবর ও ক্ষমার নীতিতে দৃঢ় থেকে সকল বিরোধীতার মোকাবেলার দায়িত্ব আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে দাওয়াতি কাজের প্রেক্ষিতে একদল ঈমানদার সৎকর্মশীল লোক গঠন হলেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই তাদেরকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দান করবেন। এভাবেই ঈমানদারগণের রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা লাভ হলেই তখন তারা আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর অনুসরণ ও অনুকরণে মানুষের জীবনে ইসলামের আইন-বিধান চালু করবেন- এটাই ইসলাম প্রতিষ্ঠায় আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত একমাত্র পদ্ধতি।ইসলাম প্রতিষ্ঠায় নারীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও ইসলাম প্রতিষ্ঠার কাজে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে।তিনি বলেন, ইসলামী সমাজ আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতেই সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।নারী-পুরুষ সকলকে তিনি ইসলামী সমাজে শামিল হয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠার ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

উক্ত মহিলা ইসলামী সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল জনাব- মুহাম্মাদ ইয়াছিন ও মুহাম্মাদ ইউসুফ আলী মোল্লাসহ আরো অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।

পরিশেষে দেশবাসীর সার্বিক কল্যানে দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে সম্মেলনের কার্যক্রম সমাপ্ত করা হয়।।