ঢাকা, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯। আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রধানত দায়ী ধনী দেশগুলোর সংকীর্ণ স্বার্থপর চিন্তা এবং উদ্যোগের তীব্র নিন্দা করেন অধিকারভিত্তিক নাগরিক সমাজ। তাঁরা বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার জন্য বিশ্বব্যাপী কার্বন উদগীরণ হ্রাস করা এবং উন্নয়নের নামে অপরাজনীতি পরিহারের আহ্বান জানান।

গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইকের সঙ্গে বাংলাদশের পক্ষ থেকে একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য এই মানব বন্ধনটি আয়োজন করে সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ এ্যান্ড ডেভলাপমেন্ট (সিপিআরডি), কোস্ট ট্রাস্ট, কোস্টাল ডেভেলাপমেন্ট পার্টনারশিপ (সি. ডি. পি.), নেটওয়ার্ক অন কøাইমেট চেঞ্জ বাংলাদেশ (এন. সি. সি. বি) এবং শরীয়তপুর ডেভেলাপমেন্ট সোসাইটি (এস. ডি. এস)। মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন সিপিআরডি’ মোঃ শামছুদ্দোহা, স্থায়িত্বশীল গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল’র) প্রদীপ কুমার রায়, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম এবং সিপিডি’র মোঃ আতিকুর রহমান টিপু।
মানববন্ধনটির সঞ্চালক কোস্ট ট্রাস্টের মোস্তফা কামাল আকন্দ উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা সম্পর্কে জেনে ২০১৮ সালের ২০ আগষ্ট সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে সুইডেনের স্কুলপড়য়া ১৬ বছর গ্রেটা থানবার্গ একটি প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন, যেখানে লেখা ছিল, “ঝপযড়ড়ষ ঝঃৎরশব ভড়ৎ ঈষরসধঃব”. তার এই উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিশে^র নানা প্রান্তে স্কুলপড়য়ারা ধর্মঘট করে তারা সুস্থ-পরিচ্ছন্ন একটা পৃথিবীতে তাদের বেড়ে ওঠার অধিকারের কথা জানায়। বিশ^ব্যাপী এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের বিশেষ জলবায়ু বিষয়ক অধিবেশনকে সামনে রেখে বিশ^ব্যাপী জলবায়ু ধর্মঘটের (এষড়নধষ ঈষরসধঃব ঝঃৎরশব, ২০-২৭ ঝবঢ়ঃবসনবৎ) ডাক দেয় গ্রেটা ও তরুণ সমাজ। বাংলাদেশ থেকে ঐ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশের জন্যই এই মানব বন্ধন।

মোঃ শামছুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য গ্যাসগুলোর আধিক্য ক্রমেই বাড়ছে। শিল্পায়ন, বিশেষ করে শিল্পোৎপাদনে জ্বালানী শক্তির জন্য জীবাষ্ম জ্বালানীর যথেচ্ছ ব্যবহার একদিকে যেমন বায়ুমন্ডলে তাপধারণকারী গ্যাসের আধিক্য বাড়াচ্ছে; অন্যদিকে বন উজারীকরন ও ভূমির অযথার্থ ব্যবহারের ফলে উদ্ভিদ, বন ও ভূমির কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের সক্ষমতা নষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। যা সন্দেহাতীত ভাবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়াচ্ছে এবং বৈশ্বিক জলবায়ু ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে।

প্রদীপ কুমার রায় বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা বহুদিন আগে থেকে সাবধান করলেও এ ব্যাপারে কোন সুদৃঢ় রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়টি দীর্ঘদিন পর্যন্ত উপেক্ষিত ছিল। জলবায়ু পরির্বতনের ঐতিহাসিকভাবেই ধনী দেশ ও তাদের ভোগবাদী জীবনযাপন দায়ী হলেও ঝুঁিক হ্্রাসে এই দেশসমূহের অবস্থান বরাবরের মতোই একপেশে ও নিজ স্বার্থ কেন্দ্রিক।

বদরুল আলম বলেন, প্যারিস চুক্তি প্রণয়নের প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হলেও জলবায়ু পরিবর্তন ও এর প্রভাব মোকাবেলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তির বাস্তবায়ন প্রত্যাখ্যান করেছে। ইতোমধ্যে, প্যারিস চুক্তিতে গৃহীত পদক্ষেপগুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিভেদ আরও বেড়েছে। বৈশি^ক কার্বন নির্গমণের জন্য যেসব দেশ ঐতিহাসিকভাবে দায়ী তারা কোনোভাবেই তাদের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিঃসরিত কার্বন কমানোর ক্ষেত্রে কোন ভূমিকা রাখছে না এবং তারা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় সঠিকভাবে অর্থায়ন করছে না। বিশ্বকে বাঁচাতে ধনী দেশগুলোর এই ধরনের অবস্থানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
মোঃ আতিকুর রহমান টিপু বলেন, বিশে^র নেতৃত্বকে জাতীয়তাবাদী স্বার্থের উর্ধ্বে উঠে বৈশি^ক স্বার্থ রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে। পৃথিবীর গড় উষ্ণায়ন প্রাক-শিল্পায়ন যুগের পর্যায় থেকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস-এ সীমাবদ্ধ রাখার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আর এর জন্য জীবাশ্ম জ¦ালানীর ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে ব›ধ করতে উন্নয়নের নামে অপরাজনীতি পরিহার করতে হবে।