ঢাকা, ৩ আগস্ট ২০১৯: আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সিএসও-এনজিও সমন্বয় প্রক্রিয়া (বিডি সিএসও কোঅর্ডিনেশন) ও কোস্ট ট্রাস্ট “উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয়করণের বিকল্প নাই: প্রয়োজন সিএসও-এনজিও বৃহত্তর ঐক্য” শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন কোস্ট ট্রাস্ট ও বিডি সিএসও কোঅর্ডিনেশন সচিবালয়ের জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্যান্য বক্তার মধ্যে ছিলেন, বাংলাদেশ এনজিও ফেডারেশনের জনাব রফিকুল ইসলাম, এডাবের সহ-সভাপতি ও দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থার রফিকুল ইসলাম, ডিজাস্টার ফোরামের জনাব নঈম গওহর ওয়ারা, বিডি সিএসও কোঅর্ডিনেশনের ঢাকা বিভাগের আহ্বায়ক জনাব মাসুদা ফারুক রতœা এবং বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের জনাব বদরুল আলম। কোস্ট ট্রাস্টের জনাব বরকত উল্লাহ মারুফ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং জনাব মোস্তফা কামাল আকন্দ স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
বরকত উল্লাহ মারুফ সারা দেশে নাগরিক সংগঠন ও এনজিওসমূহের মধ্যে বিগত দুই বছর যাবত এই স্থানীয়করণ প্রচারাভিযান ও তার চূড়ান্ত রূপ হিসেবে ঢাকায় গত ৬ জুলাই প্রায় ৭০০ স্থানীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ২০ জন আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহনে একটি জাতীয় কনভেনশন আয়োজনের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করেন। তিনি তার বক্তব্যে উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তার জন্য গ্রান্ড বারগেইন ও চার্টার ফর চেঞ্জ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিসমূহ ও তার ভিত্তি হিসেবে উন্নয়ন কার্যকারিতা প্রক্রিয়া ও স্থানীয়করণ বিষয়গুলোও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, এই প্রতিশ্রুতিসমূহে প্রায় সকল দাতা সংস্থা, জাতিসংঘের সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহ স্বাক্ষর করলেও মাঠে তাদের কর্মকা-ে তার প্রয়োগ কমই দেখা যায়। তিনি আরো বলেন, সেসব আন্তর্জাতিক সনদে স্থানীয় সংগঠনের গুরুত্ব ও তাদের নেতৃত্ব বিকাশের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহনের উপর জোর দেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সারা দেশের স্থানীয় সিএসও-এনজিওদের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রস্তুত করা নিজস্ব জবাবদিহিতা সনদ ও সরকার, দাতা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নিকট তাদের প্রত্যাশার সনদ তুলে ধরা হয়।
জিবিএসএস-এর মাসুদা ফারুক রতœা জবাবদিহিতা সনদ ও তার ৮টি দফা তুলে ধরেন। জবাবদিহিতা সনদের শিরোনাম হচ্ছে, “আমরা আমাদের মূল্যবোধ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে দায়বদ্ধ”।
জনাব নঈম গওহর ওয়ারা “চাই সকলের অংশগ্রহন ও সম্পূরক ভূমিকা” শীর্ষক প্রত্যাশার সনদ তুলে ধরেন। এই সনদ মূলত সরকার, দাতা সংস্থা, জাতিসংঘের সংস্থা ও আন্তর্জাতিক এনজিওসমূহের কাছে স্থানীয় সংগঠনসমূহের প্রত্যাশা যেখানে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার করতে হবে, অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে, উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য সিএসও-এনজিওদের কাজের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি, স্থানীয় সংগঠনের বিকাশে কারিগরি সহায়তা এবং সামর্থ উন্নয়নের বদলে পারষ্পারিক সামর্থ বিনিময়, এবং সর্বোপরি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগ করবে।
এফএনবি’র রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় সংগঠনসমূহের দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার কাজে তাদের দূরে রেখে সেই কাজ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক এনজিওদের দেয়া হয়েছে।
দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা ও এডাবের মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর দেশ পুনর্গঠনে বাংলাদেশের যেসব ছোট ছোট বেসরকারি সংস্থা কাজ করেছে, উন্নয়ন ও দুর্যোগ মোকাবেলার কাজে তাদের সামর্থ্য ও যোগ্যতা আছে। কিন্তু জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার অনেকেই সেই যোগ্যতাকে আমলে নেন না।
কোস্ট ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক জনাব রেজাউল করিম চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে উপস্থিত গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান যাতে তাদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে যেন জনমত গঠিত হয়। এতে স্থানীয় সংগঠনগুলো বাণিজ্যিক সম্প্রসারনের চাইতে স্থায়িত্বশীল ও গণকেন্দ্রিক উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে কাজ করে যাবার ও উন্নয়নে অবদান রাখার উৎসাহ পাবে।