বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার-এর উদ্যোগে আজ ২৬ জুলাই ২০১৯ শুক্রবার, সকাল ১১.০০ টায়; ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে (সেগুণবাগিচা, ঢাকা) “সাম্প্রতিক নদী-উদ্ধার তৎপরতা, মহাপরিকল্পনা ও নদীর ভবিষ্যৎ” শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন-এর সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য পেশ করেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বক্তব্য রাখেন বাপা’র নির্বাহী সদস্য শারমীন মুরশিদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন সমন্বয়কারী মিহির বিশ^াস, ব্রহ্মপুত্র রিভার কিপার ইবনুল সাঈদ রানা প্রমূখ। পরিবেশবাদী অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিগন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও পরিবেশবিদগন সংবাদ সম্মেলনে অংশ গ্রহন করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, “মহাপরিকল্পনার বিষয়ে দেশের মানুষ অজানা। কি সেই মহাপরিকল্পনা, তা দেশের মানুষের কাছে উম্মুক্ত করতে হবে। মহাপরিকল্পনা কি দেশের বৃহৎ স্বার্থে হচ্ছে না কি দখলদারদের স্ব^ার্থে হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি। বাস্তবে, সরকারের নদীর দখলদার উচ্ছেদ কর্মকান্ড ক্রটিপূর্ণ। হাইকোর্টের বেঁধে দেয়া নদীর তিনটি অংশ – তলা, তট ও পাড় (১০ থেকে ৫০ মিটার প্রস্থ) এই তিনটি অংশের ভিতরের সকল স্থাপনা নির্মোহভাবে উচ্ছেদ না করলে এই অভিযান সঠিক ও গ্রহনযোগ্য নয়। তিনি হাইকোর্টের নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন দাবী করেন। নচেৎ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জনগনের আকাংখা – ‘মুক্ত নদী প্রবাহ’ অধরাই থেকে যাবে”।

লিখিত বক্তব্যে শরীফ জামিল বলেন, “আমরা ‘নদী ধ্বংসাত্মক চলমান ওয়াকওয়ে প্রকল্প’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ বলে দেশবাসীকে ইতিপূর্বেই অবগত করেছি। গত ১৪ জুলাই ইওডঞঅ কর্তৃক বুড়িগঙ্গা নদীর পাশে “বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর ভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুসাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ (২য় পর্যায়)” শীর্ষক প্রকল্পের স্থাপিত একটি সাইনবোর্ড আমাদের মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্টা অবৈধ ওয়াকওয়ে নির্মাণ কাজকে ২য় পর্যায়ে অনুমোদন করা হয়েছে।

উচ্ছেদ তৎপরতা চলাকালীন সময়ে সংবাদ মাধ্যম আমিন মোমিন হাউজিং কোম্পানির দখল গোচরে আনায় তুরাগ নদীর ওই অংশের তলদেশ পুনরুদ্ধার করে সরকার। এই চ্যানেল উদ্ধারের কারণে অপর পাড়ে বিগত ৫ বছর ধরে চলমান শ্যামলাসী গ্রামের ভাঙ্গন কিছুটা কমতে পারে। উক্ত উদ্ধার কাজ পরিচালনায় বর্তমান সরকারের দৃঢ়তার পরিচয় প্রশংসনীয়। কিন্তু নদীটির নির্দিষ্ট ওই অংশে নদী বেড়িবাধ পর্যন্ত প্লাবন অঞ্চলের সাথে বর্ষায় একাকার হয়ে বয়ে চলার কথা। কাজেই অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিযুক্ত এই চ্যানেল উদ্ধার। নদীর তট ও পাড় সহ তুরাগ ও বুড়িগঙ্গার যৌথ প্লাবন অঞ্চলে বিগত দেড় দশক এরও কম সময়ে অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা বসিলা গার্ডেন সিটি, বসিলা ফিউচার পার্ক, সূচনা হউজিং, বসিলা মডেল টাউন, চন্দ্রিমা উদ্যান হাউজিং, ঢাকা উদ্যান, বসিলা সিটি হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, মীর আক্তার সিমেন্ট সহ অনেক অবৈধ স্থাপনাকে প্রকারান্তরে বৈধতা প্রদান করতে পারে বলে আমরা আশংকা প্রকাশ করছি। একইভাবে আদিবুড়িগঙ্গা নদীকে মনোরম করা, তুরাগ পুনরুদ্ধার সহ নানান ত্রুটিপূর্ণ ও তড়িৎ প্রকল্প অনেক অবৈধ স্থাপনাকে বৈধতা প্রদান করবে বলে আমরা মনে করি।

চলমান প্রক্রিয়ার ড্রেজিং ও পাড় বাঁধাইয়ের মাধ্যমে যদি বাংলাদেশের নদীগুলোকে ড্রেন কিংবা পানি যাবার রাস্তায় পরিণত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা বাস্তবসম্মত হবেনা এবং নদীমাতৃক এই দেশের সার্বিক নদী ব্যবস্থাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করবে এবং বর্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে নতুন নতুন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করবে। চলমান অদূরদর্শী ও অসম্পূর্ণ পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ এবং তার বাস্তবায়ন, বাংলাদেশের নদীসমূহের অকাল মৃত্যু ঘটাবে। তাই সম্প্রতি উচ্চআদালতের রায়ে তুরাগ ও দেশের অন্যান্য নদী সমূহকে জীবন্তসত্ত্বা হিসাবে দেয়া সিদ্ধান্তের কারণে এই সকল উদ্যোগ জটিলতর অবস্থায় পড়বে বলে আমরা মনে করছি। আমরা সরকারকে এই রায়ের মর্মার্থ উপলব্ধির আবেদন জানাই। উক্ত রায়ে উল্লেখিত “তুরাগ নদী সহ দেশের সকল নদনদী খাল বিল জলাশয়ের ক্ষেত্রে নতুন প্রকল্প প্রণয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশন, এল জি ই ডি, পানি উন্নয়ন বোর্ড, বি আই ডব্লিউ টি এ, বি এ ডি সি সহ সকল সংস্থা জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে অবহিত করবেন এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের অনাপত্তি পত্র গ্রহণ করবেন।