নীরবে-নিভৃতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ভোট হয়ে গেল গতকাল। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলেন ববসায়ীদের নেতা আতিকুল ইসলাম। তিনি প্রয়াত মেয়র আসিনুল হকের স্থলাভিসিক্ত হলেন। এই অভিষেক তাঁকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সামনে ছুড়ে দিয়েছে। যদিও তিনি বছর দেড়েক থাকবেন। এর ওপরেই নির্ভর করবে তাঁর ইমেজ কতটুকু তিনি ধরে রাখতে পারবেন। কেবল ব্যবসায়ীরাই ঢাকার নাগরিক নন, তাদের পাশাপাশি খাতকগণও আছেন, আছেন সাধারণ মানুষ। নির্বাচিত মেয়র মাত্র ৮৪৯৩০২ ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু ভোট যতই নগণ্য হোক না কেন, নগরের ৩০,৩৫,৬২১ ভোটার ও শিশুরাও তাঁর এলাকার জনগণ। তিনি এখন থেকে গুরুত্বপূর্ণ অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করবেন।

বলা হচ্ছে, তিনি প্রয়াত মেয়রের প্রতিনিধি হিসাবেই অভিষিক্ত। তাই আসিনুল হকের অসম্পূর্ণ কাজ সমাপ্ত করতে তাঁকে সাহসী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা দক্ষিণের চাইতে ঢাকা উত্তরের মানুষর প্রত্যাশা নিশ্চয়ই কম। ঢাকা দক্ষিণের চাইতে ঢাকা উত্তর যেহেতু মোটামোটি সুসংঘটিত, তাই কেবল একটু দেখভাল করলেই বাসযোগ্য কর্পোরেশন তৈরি করা তাঁর পক্ষে সম্ভব। তবে সাহসের কোনো বিকল্প নেই। তিনি যদি মনে করেন, তাঁর হারানোর কিছু নেই, তাহলে তিনি জিতবেন। আর ভবিষ্যতে জেতার জন্য যদি রাজনৈতিক কৌশলী হন, তাহলে তিনি হারবেন এবং তাঁর সাথে জনগণও হারবে। আমরা চাই, নগর পরিকল্পনাবিদদের সহায়তায় দু্ এলাকার মেয়রের একটি সমন্বিত উদ্যোগে ঢাকা একটি বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত হবে।

যাতােয়াতের ক্ষেত্রে সরকারের সাথে সাথে আপনারও অনেক কাজ রয়ে গেছে। সেই কাজগুলো করার জন্য আপনার দেড় বছর সময় খুব বেশি নয় বলে গুরুত্ব অনুযায়ী কাজের পরিকল্পনা করে আনিসুল হকের আত্মাকে অন্তত শান্তি দিন যে তাঁর অসমাপ্ত কাজই তার সহযোদ্ধা, ব্যবসায়ী নেতার হাতেই সুচারুরূপে সম্পন্ন হচ্ছে।

উত্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য বস্তিবাসীকে ইতিবাচক কাজে লাগাতে পারেন। গরিব মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য শুদ্ধ করণীয়গুলো ঠিক করুন। আপনাকে সহায়তার জন্য হয়তো কিছু ভালো মানুষ প্রতীক্ষা করছে। কেউ আসুক বা না আসুক-এমন হামবাড়া মন্তব্য নগরপিতা হিসাবে আপনাকে মানাবে না। যেভাবেই হোক, রাজনৈতিক দলগুলোর সংকটের কারণেই ভোটারের সংখ্যা নগণ্য। তবুও আপনার সৎ উদ্দেশ্য সফল হোক আমরা কামনা করি। মিডিয়া আপনার সাথে আছে এবং থাকবে।

সম্পাদক

মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সরকার